ব্লগ সম্পর্কিয় কথা

স্বরচিত কবিতা এবং অনুগল্প পাঠান , সপ্তাহের সেরা নির্বাচিত লেখাগুলো ব্লগে পোস্ট করা হবে।

Friday, 21 September 2018

সমর্পয়িতা

সমর্পয়িতা
~সুপ্রতিম রং

জীবন নামক জীবনমুখী চেতনার নৈশ্য জাগরণে
ঊষার লালচে অনুভূতির ঘর্মাক্ত হলদেটে গোধূলি,
আলো আঁধারির বৈপরীত্য অপবর্তনের বিবর্তন
সরল দোলকে তরঙ্গায়িত সূত্ররূপ আজ মানুষের মনন।
প্রচ্ছন্ন গুলো প্রকট করার প্রশান্তিমাখা আধুনিকতা
ডিসি- এসি বিদ্যুতের অভাবে হারিয়েছে পি এন গেট, হারিয়েছে ইলেকট্রনের চুম্বকতা।
রাদারফোর্ডের সূত্রাবলীর নশ্বর পর্যালোচনায়
ভারাক্রান্ত বোর, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতায়
ডাক্তার বা প্রকৌশলীই আজ সমাজের উলঙ্গ উন্মেষ।
ইঁদুর লড়াই এর স্টার্টিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে প্রথম আঁধার থেকে
পুনর্জন্মের গল্প যখন কুয়াশায় ঢাকা রেখে
প্রগাঢ় সভ্যতার গূঢ় বিষয়ের নৈসর্গিক আলোচনায়
মত্ত সমাজের প্রয়োজন নির্দিষ্ট বিলাস উদযাপন।
নিত্য ভক্তি, শিক্ষকের প্রতি নির্দিষ্ট প্রহরেই সমাপন।
বৃষ্টি মাখা ভালোবাসার শিলাবৃষ্টির শ্রদ্ধা ও সমর্পণ।
পদার্থ- বিজ্ঞানের সলিনয়েড কিংবা বৃষ্টি বিমুখ ভেক্টরের,
কোনবিন্যাসে কিংবা প্রাসের গতিপথের গতি হীন- সংজ্ঞা-
উন্মোচনের একনিষ্ঠ দ্বারস্থ আপনার প্রজ্ঞা।
সহস্রকোটি শিক্ষানবিশের বিষয় বন্ধকতা
        উত্থিতিকরনে ভারপ্রাপ্ত মহাপ্রাণে-
অষ্ট- অঙ্গে প্রণাম জানাই
       শিক্ষক দিবসের পুন্যক্ষনে।।
                            

   - সুপ্রতিম রং
ঠিকানা:
সুপ্রতিম রং
নারায়নপুর, তারকেশ্বর, হুগলী
ডাক: ৭১২৪১০

খুকুর নাচ

খুকুর নাচ
~বটু কৃষ্ণ হালদার

টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে পদ্ম পাতার গা 'য়
দু হাত তুলে নাচছে খুকু ভারী মজা পায়"
ভিজছে কাক,বক,শালিক নীড়ে পাখির ছানা
আয় ঝাঁপিয়ে বৃষ্টি ওরে ভিজতে নাই রে মানা"
জল টুপ টুপ পড়ছে ফোঁটা কলাপাতার গায়ে
রুনু ঝুনু বাজছে নূপুর খুকুর দুই টি পায়ে"
দূর নীলিমায় তাকিয়ে খুকুর দুঃখে ভরে মন
বৃষ্টি তুমি নাই বা গেলে থাকোনা সারাক্ষণ"
টুপ টুপ বৃষ্টি ধারা য় আবছা জানালার কাঁচ
আয় দেখে যা তোরা খুকুর বাঁধন হারা নাচ "

বটু কৃষ্ণ হাল দার
327/3 M. G ROAD
POST. R. C THAKURANI HARIDEV PUR
KABARDANGA MORE
KOLKATA. 700104


পায়ে জমেছে পথের ধুলো

পায়ে জমেছে পথের ধূলি
~নুরুল ইসলাম বাবুল

ক্রমশ বাড়ছে পায়ের ধূলি
ওই দূর গ্রামে আকাশ নেমেছে বলে;
শুনেছি মেঘেরা পাহাড়ে ঘুমায়
তারপর জলের স্রোতে ভাসায় নদী
নদীরা সমুদ্র ভালোবাসে খুব।
জানি না,
কী স্বপ্ন বুকে নিয়ে নেমেছে আকাশ
ওই দূর গ্রামে...
কেউ বলে, পেতে চায় মৃত্তিকার ঘ্রাণ
শুণ্যের মায়াজাল বলে কেউ কেউ
তাকায় ঝাপসা চোখে,
আমি শুধু ছুটে যাই পেছনে ফেলে
অন্তহীন পথ...
আহা! কখন নামবে আকাশ এই গাঁয়ে
পায়ে ঢের জমে গেছে পথের ধূলি।

বর্ষার হাসি

            বর্ষার হাসি
  ~  মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

বর্ষা নতুন সাজে সাজায় প্রকৃতির রং,
প্রকৃতিতে ফিরে আসে সজীবতা।
গ্রীষ্মের তাপে মাঠ-ঘাট ফেটে হয় চৌচির,
বর্ষায় ফিরে আসে সেই সজীবতা।
গাছে গাছে সবুজ পাতা,
আর নানা ফুলের সমারোহ।
জমিতে জমিতে ধান,
কৃষকের মুখে হাসির বান।
প্রকৃতি এক অপরূপ সৌন্দর্য গড়ে ওঠে,
আর মানব মনে বয়ে আনে আনন্দের জোয়ার।

মেয়ে- অনুকনা পান

মেয়ে
~ অনুকনা পান

এ এক অন্য গল্প
   মেয়ে থেকে নারী হওয়ার,
যে ভেজা চোখ মনে মনে স্বপ্ন তুলির দিত টান,
      আজ তা ধুয়ে গেছে আপোষের জলরঙে,
মেয়েবেলার পুতুল বিয়ের গল্প আসর
        আজ যৌবনের বাস্তব।।
বাবার সংশয়,মায়ের আহ্লাদ যার বড় হওয়ার রসদ
আজ সে প্রতিদিনের অবহেলা তেও ক্লান্ত হয়না।।
যে আঁচলে লুকিয়ে রাখত নিজের লজ্জা,সোহাগ,কষ্ট
সামান্য চাবুকের কালিমা ঢাকতেই তাতে পড়ছে টান
তবু সতীত্ব বাঁচাতে হয়,
বিছানায় আনাচে-কানাচে কুঞ্চিত চাদরের ভাঁজ
     তার সাক্ষী।।
তবে এটুকু জানে শরীরের মায়াবি নেশা আত্মার হাহাকারকে রোজ গ্রাস করে,
সমস্ত কাঙ্খিত অনুভূতি চুপিসাড়ে খুন হয় রোজ
এ এক অদ্ভুত পরিবর্তন
রোজ আরও পরিণত ভাবে নিজের অস্তিত্বের খুন
এ এক আজব মেয়ে থেকে নারী হওয়া।।
  

ঠিকানা-বেগড়ী,হাওড়া

Friday, 14 September 2018

তারা- অনামিকা দত্ত

তারা
~অনামিকা দত্ত

বড় অদ্ভুত চোখের তারা দুটি
বিশাল আকাশটার সহস্র তারাকে
বেঁধে ফেলে নিজের করে।
কখনো ভাষাহীন, বাক্যহীন, শব্দহীন ভাবে,
বলে ওঠে কত কথা;
অথবা নিষ্ঠুর ভাবে ছুরি বসায়
কোনো এক পাগল প্রেমিকের বুকে!



Thursday, 13 September 2018

কবিতা তোমার কবিতা আমার

#কবিতা_তোমার_কবিতা_আমার
~শুভদীপ চক্রবর্তী

তোমার কবিতা উৎকর্ষে ভরা
হয়েছে স্কুলের পাঠ্য,
আমার কবিতা সুন্দর ভীষন
যুক্তিতে অকাট্য।।

তোমার কবিতা বইয়ের পাতায়
ছবির মোড়কে মোড়া,
আমার কবিতা শুরু আর শেষ
মুখ-বইএ, বইএ ঘোরা।।

আমার কবিতায় প্রেম প্রেম ঘ্রাণ
হৃদয়ে হৃদয়ে মিলমেশ,
তোমার কবিতায় খান খান হৃদে
শব্দ প্রলেপ অবশেষ।।

আমার কবিতা বলতে না পারা
রোজকার সত্য কথা,
তোমার কবিতা মন ছুঁয়ে বোনা
শব্দ সুতোর কাঁথা।।

কবিতা আমার, কবিতা তোমার
কবিতা চিরন্তন,
কবিতা কাঁদায় , কবিতা হাসায়
তোমার আমার মন।।

তাপস কিরণ রায়ের তিনটি কবিতা

১) রক্তোলাস

বালিশের ওয়ার থেকে কিছু গন্ধ খুলে নিয়ে ছিলাম

ঝকমারি জীবনটাকে পাটপাট চাদরের নিচে  

তার অগোছালো কথা

অন্ধকারে খুলে যাচ্ছিলো চোখ--

চোখের মধ্যে যে স্বেচ্ছাচার, নিভুপ্রায় আলোকের মাঝ

আমরা চোখ বুঝে আছি।

রাতের পাখায় উড়ে যাচ্ছে অঢেল স্বপ্নপাত।

তোমাতে না পাওয়ার বিষাদ খোলস ছাড়ছে দেখো

লাল রঙ

পলাশ ও শিমুল ঠোঁট। 

কিছু ঝড়ো হাওয়ায় এলোমেলো বীজ বুনে যাচ্ছে,

এস এটাই সময়, প্রণয়ের ফুল ছিঁড়ে প্রেমশয্যা পাতি

ভুবনের বিবর্ণতা ছিঁড়ে একটি রক্ত গোলাপ

বুকের ভালবাসা

অসংখ্য রক্তোলাস ভাঙছে !


২)গেঁড়ো

তে তলায় নয়, আরও ওপর থেকে

তোমায় দেখতে গিয়ে সব কিছু ভ্যানিশ, 

শূন্যতার মাঝে আমার চোখ দিয়ে

বেরিয়ে উড়ে যাচ্ছে প্রজাপতিদল 

তুমি দেহ কামনায় জড়িয়ে যেতে চেয়ে 

আবার রং বানাচ্ছো।

হরিবোল থেকে উঠে আসছে কোমর দোলানো নাচগুলি।

ফচকে গিয়ে জন্ম নিচ্ছে ধারাবহ

নিশ্চিত ধরতে ধরতেও গেঁড়ো ছিঁড়ে যাচ্ছে--

ঘুরিয়ে বললে গালি হয়ে বেরিয়ে আসছে সমস্ত বেজন্মাদল।

৩) দেহ

স্পর্শ করেছো যাকে সে শুধু দেহ

সেখানে নাম নেই, পদবী নেই। 

স্থবিরতা খুঁজতে খুঁজতে এক নির্জন পাগল

বুক খুলে রাখে--যেখানে অনায়াস কোন রং ঢুকে যেতে পারে। 

দিবালোকের কথা ভুলে যায় রাত

রাতমন্থনে কি বিষ নাকি অমৃত উঠে আসে ?

একাধারে শয্যা বিলাসীর মুখে ধরা থাকে হর্ষ ও বিমর্ষ খেলা

স্বাগতম তুমি নারী, পুরুষের ফাঁদ পাতা থাকে জেনো 

তবু দূরত্বের বেশিটাই হেঁটে যায় পুরুষ

হিংস্রতা ও গলে যাবার প্রবণতাও বুঝি জীবন

অথবা কঠোর পাথর ঘষে ঘষে তোমার রোমশ শরীর রেশা 

বৃক্ষের কর্কশ দেহ ঘেঁষা। এখান থেকেই বুঝি কামনার জন্ম

অস্থিরতা ঘিরে লাল শিমুল পেঁচিয়ে উঠে আসে একটা ময়াল

নক্সী নাভি ছিদ্রে বাসা বাঁধে যে কীট 

কুরে কুরে খাচ্ছে তোমার লাঞ্ছিত আশ্রয়--

তোমার গোপন ছেদ।

সুগঠনবিশিষ্ট পোষ্টগুলি