ব্লগ সম্পর্কিয় কথা

স্বরচিত কবিতা এবং অনুগল্প পাঠান , সপ্তাহের সেরা নির্বাচিত লেখাগুলো ব্লগে পোস্ট করা হবে।

Showing posts with label তাপসকিরণ রায়. Show all posts
Showing posts with label তাপসকিরণ রায়. Show all posts

Thursday, 13 September 2018

তাপস কিরণ রায়ের তিনটি কবিতা

১) রক্তোলাস

বালিশের ওয়ার থেকে কিছু গন্ধ খুলে নিয়ে ছিলাম

ঝকমারি জীবনটাকে পাটপাট চাদরের নিচে  

তার অগোছালো কথা

অন্ধকারে খুলে যাচ্ছিলো চোখ--

চোখের মধ্যে যে স্বেচ্ছাচার, নিভুপ্রায় আলোকের মাঝ

আমরা চোখ বুঝে আছি।

রাতের পাখায় উড়ে যাচ্ছে অঢেল স্বপ্নপাত।

তোমাতে না পাওয়ার বিষাদ খোলস ছাড়ছে দেখো

লাল রঙ

পলাশ ও শিমুল ঠোঁট। 

কিছু ঝড়ো হাওয়ায় এলোমেলো বীজ বুনে যাচ্ছে,

এস এটাই সময়, প্রণয়ের ফুল ছিঁড়ে প্রেমশয্যা পাতি

ভুবনের বিবর্ণতা ছিঁড়ে একটি রক্ত গোলাপ

বুকের ভালবাসা

অসংখ্য রক্তোলাস ভাঙছে !


২)গেঁড়ো

তে তলায় নয়, আরও ওপর থেকে

তোমায় দেখতে গিয়ে সব কিছু ভ্যানিশ, 

শূন্যতার মাঝে আমার চোখ দিয়ে

বেরিয়ে উড়ে যাচ্ছে প্রজাপতিদল 

তুমি দেহ কামনায় জড়িয়ে যেতে চেয়ে 

আবার রং বানাচ্ছো।

হরিবোল থেকে উঠে আসছে কোমর দোলানো নাচগুলি।

ফচকে গিয়ে জন্ম নিচ্ছে ধারাবহ

নিশ্চিত ধরতে ধরতেও গেঁড়ো ছিঁড়ে যাচ্ছে--

ঘুরিয়ে বললে গালি হয়ে বেরিয়ে আসছে সমস্ত বেজন্মাদল।

৩) দেহ

স্পর্শ করেছো যাকে সে শুধু দেহ

সেখানে নাম নেই, পদবী নেই। 

স্থবিরতা খুঁজতে খুঁজতে এক নির্জন পাগল

বুক খুলে রাখে--যেখানে অনায়াস কোন রং ঢুকে যেতে পারে। 

দিবালোকের কথা ভুলে যায় রাত

রাতমন্থনে কি বিষ নাকি অমৃত উঠে আসে ?

একাধারে শয্যা বিলাসীর মুখে ধরা থাকে হর্ষ ও বিমর্ষ খেলা

স্বাগতম তুমি নারী, পুরুষের ফাঁদ পাতা থাকে জেনো 

তবু দূরত্বের বেশিটাই হেঁটে যায় পুরুষ

হিংস্রতা ও গলে যাবার প্রবণতাও বুঝি জীবন

অথবা কঠোর পাথর ঘষে ঘষে তোমার রোমশ শরীর রেশা 

বৃক্ষের কর্কশ দেহ ঘেঁষা। এখান থেকেই বুঝি কামনার জন্ম

অস্থিরতা ঘিরে লাল শিমুল পেঁচিয়ে উঠে আসে একটা ময়াল

নক্সী নাভি ছিদ্রে বাসা বাঁধে যে কীট 

কুরে কুরে খাচ্ছে তোমার লাঞ্ছিত আশ্রয়--

তোমার গোপন ছেদ।

Thursday, 14 June 2018

তাপসকিরণ রায়ের কিছু কবিতা

তাপসকিরণ রায়ের কবিতা

আন্দোলিত কথাগুলি
~

যে শব্দ দিয়েছি তোমায়, যে ছবি দেশান্তর,
তা দিয়ে কবিতা বানিয়ে দাও বুক,
ছায়া নিয়ে ছায়াতীত ভাবনা,
ঝংকার নিয়ে সমস্ত গানের স্বরলিপি,
বাতাস নিয়ে বৈশাখী ঝড়,
মাটির ফাটলে উদাসী খরার চিত্র আঁকা আছে দেখো !
ঘূর্ণ ফুঁৎকারে তোমার চরিত্র আঁকা—
নৈর্ব্যক্তিক ভাবনার আন্দোলিত কথাগুলি
তোমার কবিতা হয়ে যায়।

ছেঁড়া ডানা
~
ডানা ছেঁড়া পাখিটিকে আর দেখি নি,
অথচ তার পাখার হাওয়া আজও গায়ে এসে লাগে,
প্রখর মধ্যাহ্নে লেখা কবিতাগুলি বড় কঠোর হয়েছে !
নিংড়ে তুমি উঠে এলে বাইরে,
এমনি পলাশী বসন্তে কতবার মিলেছি,
এমনি বারুদী গন্ধে এখানে ওখানে পালিয়ে বেড়িয়েছি।
সে সব কথকতা কালের শিথানে দাগ কাটা আছে।
সব কিছুই নাকি ভবিতব্য, তবু ভাগ্যপাখা বাঁচিয়ে ফিরি--
ফেরি করি জীবন গুজার !

জীবনে কখনও কিছু না কিছু লিখে দিয়েছি তোমার হাতে,
আজ অস্পষ্ট সে হলুদ খাম, ঝলসানো পাতায় তবু দেখ
সেই বিবর্ণ নাম, আজও তোমার অনুগ্রহে ছুঁয়ে আছে মন।

শব্দগুলি ভেঙে ভেঙে
~

শব্দগুলি ভেঙে  ভেঙে ভগ্ন রণিত কবিতা,
বিবস্ত্র মাঠের বিবর্ণতা, কখনও অরাজক তোমার কবিতা চিত্রণ।
তোমার শব্দ গ্রহণ নৈঃশব্দ থেকে শুরু হয়।
যে কণ নখরে ছিঁড়ে এলো, বৈদূর্য সৃষ্টির ভাব তোমার অন্তঃস্থল।
ভেঙে ভেঙে টুকরো টুকরো যন্ত্রণা,
আগুন স্ফুলিঙ্গ ছিঁড়ে আমাদের লাল মুখ,
বাতাস শ্বাসে ধরে নিই জীবন,
আর জীবনের মানে জন্মান্তর বেলা--সমগ্র বিশালতা যখন
ধরা থাকে বিন্দুর মাঝে ! 

সুগঠনবিশিষ্ট পোষ্টগুলি